#রূপে_রূপান্তরে_দুর্গা
পর্ব ৪
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত মহামায়ার বিবিধ রূপ।। অর্গলাস্তোত্রে দেবীর রূপবর্ণণায় তাঁকে প্রণতি জানিয়ে বলা হচ্ছে ---
🌺 জয়ন্তী মঙ্গলাকালী ভদ্রকালী কপালিনী ।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোহস্তুতে।। 🌺
আজ এই ধারাবাহিক আলোচনার চতুর্থ পর্বে দেবীর 🌸ভদ্রকালী 🌸 রূপের অনুধ্যান।।
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে বর্ণিত দেবী ভদ্রকালীর বিবিধ রূপ।। তন্ত্রসারঃ দেবীর যে মূর্তি প্রকাশ করেছেন, তা অতি বিকট, চিৎকার ভঙ্গিমায়।। আবার কালিকাপুরাণ বলছেন -- কালী প্রথমে উগ্রচণ্ডী, দ্বিতীয়ায় ভদ্রকালী এবং তৃতীয়ায় দুর্গারূপ ধারণ করে মহিষমর্দিনী।। দেবী ষোড়শভুজা।।
শিবপুরাণে বর্ণিতা মহামায়া দেবী পার্বতী নিজের দেহ থেকে ভদ্রকালীকে সৃষ্টি করেন।। উদ্দেশ্য দক্ষযজ্ঞ ধ্বংস করা। দেবী ভাগবতেও ভদ্রকালী "দক্ষযজ্ঞবিনাশিনী" নামে আখ্যায়িতা।।
রামায়ণে দেখতে পাই -- ভদ্রকালীর স্বপ্নাদেশে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বীর হনুমান। মহীরাবণ পাতালে ভদ্রকালীকে প্রতিষ্ঠা করেন, পরে হনুমান তাঁকে মর্ত্যলোকে আনেন।। বর্ধমানের যোগাদ্যা মন্দিরের নিকট এই ভদ্রকালী স্থিত।।
কালিকাপুরাণ অনুসারে, সত্যযুগের প্রথমে যোগনিদ্রা দেবীই ভদ্রকালী রূপে মহিষাসুরমর্দিনী হন। তারপর দেবতাদের কাত্যায়ন মুনির আশ্রমে পাঠান। সেখানেও ঘটে বিপদ।। বলা হচ্ছে প্রথম মহিষাসুর বধ হলেও আবার একটি মহিষীগর্ভজাত অসুর জন্মায়, তাঁকে বধ করতে সকল দেবগণ তাঁদের দেহ হতে জ্যোতি বের করেন, যে জ্যোতিপুঞ্জই নিরাকারা মহামায়া সাকার রূপে প্রকাশিত হন। কাত্যায়ন কর্তৃক দেবী পূজিতা হলেন তাই তিনি কাত্যায়নী।। ইনিই দনুজদলনী।।
🌺🌺ওঁ কাত্যায়নায় বিদ্মহে কন্যাকুমারী ধীমহি। তন্নো দুর্গে প্রচোদয়াৎ।।🌺🌺
এই মহিষাসুর একদা স্বপ্নে দেখেন দেবী ভদ্রকালী তার মুণ্ডচ্ছেদ করে রক্ত পান করেন।। ভয়েভীত অসুরাধিপতি দেবীর পূজা করলে দেবী তাকে অভয় প্রদান করেন। কিন্তু মহিষাসুর নারী রূপ ধরে কাত্যায়নের সহিত ছলনা করলে ক্রোধিত ঋষি শাপ দেন -- নারী হাতেই তোর মৃত্যু।।
